পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১২

“হালখাতাকে” , “পান্তা-ইলিশ” বানিয়ে দিল

১৫৫৭ সালে দিল্লীর মোগল সম্রাট আকবার প্রবর্তিত “সন-ই এলাহী ” নামে খাজনা আদায়ের সুবিধারথে বাংলা ১২ মাসের একখানা ‌বাংলা সন তৈরি করেন ।  যা এখোন ‌বাংলা সন  হিসাবে ব্যবহ্নত হয়ে আসছে ।
বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে চৈত্রে এর সমাপ্তি ।
বৈশাখের ফসল উৎপাদনের করে  সম্রাটের খাজনা পরিশোধের পর কৃষক তার ফসল ঘড়ে তুলে আনন্দ উৎসব পালন করত ও মহাজনের পাওনা পরিশোধ করত । এই উপলক্ষে তখন থেকেই গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসত । 
তারই ধারাবাহিকতায় চৈত্রের শেষের দিন থেকে বৈশাখের প্রথম কয়েক দিন  ব্যাবসায়িরা  তাদের ব্যবসার হালখাতা বা তাদের বিগত বৎসরের বকেয়া আদায় করেন । কৃষকদের হাতে ফসল বিক্রির টাকা থাকত বিধায় তারা বেস কেনাকাটা করত । তাই  ব্যাবসায়িরা তখন গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসাত । যা আজও চলে আসছে ।
কিন্তু পহেলা  বৈশাখে “পান্তা-ইলিশ” খাওয়ার প্রচলনটা শহুরে লোকজন এমনভাবে শুরু  করে দিল যে , কৃষকেরাও তাদের সেই পুরান ঐতিহ্য ভুলে নগরবাসীর বৈশাখী উৎযাপনের স্রোতে গা এলিয়ে দিয়ে “হালখাতাকে” ,  “পান্তা-ইলিশ” বানিয়ে দিল । এই “পান্তা-ইলিশ” এতটাই দাম দিয়ে কিনতে হয় যে , যা প্রায় সকল কৃষকের নাগালের বাইরে ।
পান্তা ভাত ইলিশ দিয়ে খেতে হয় এটা বোধ করি বাঙালী জাতীর আগে জানা ছিলনা ।
সম্রাট আকবরের খাজনা আদায়ের সুবিধা  ও ব্যাবসায়িদের হালখাতা আজ  বাঙ্গালীর কাছে হয়ে উঠেছে , “ বাঙ্গালীর সংস্কৃতির “পান্তা-ইলিশ”  ও বাঙ্গালীর চেতনার অন্যতম উৎস ” । 

1 টি মন্তব্য: